১ মিনিটে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম ২০২৬
এখন থেকে অনলাইনে মাত্র ১ মিনিটে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন সম্পূর্ণ ফ্রিতে এবং সহজ উপায়ে। এই আর্টিকেলে থাকা ছবিসহ সহজ গাইডটি অনুসরণ করে everify.bdris.gov.bd থেকে জন্ম সনদ যাচাই ও যাচাই কপি ডাউনলোড করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া জানুন।
বিষয়বস্তুর সারণী:
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য কি কি লাগে?
এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে ২টি তথ্য। সেগুলো হলো:
১) জন্ম নিবন্ধন নাম্বার;
২) উক্ত ব্যক্তির জন্ম তারিখ (yyyy mm dd) ফর্ম্যাটে।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে যা প্রয়োজন
এই দুইটি তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করে সহজেই আপনার সনদ যাচাই করুন।
আপনার ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বরটি দিন।
সঠিক জন্ম তারিখ (বছর-মাস-দিন) ফরম্যাটে লিখুন।
সহজে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করুন ২০২৬
আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদটি সঠিক কি-না / অনলাইনে লিপিবদ্ধ হয়েছে কি-না, তা যাচাই করার জন্য প্রথমেই চলে আসতে হবে BDRIS GOV BD ওয়েবসাইটে এরপর নিচের দেয়া ফরমে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ (YYYY – MM – DD) এই ফর্ম্যাটে লিপিবদ্ধ করে ফেলতে হবে।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই ফর্ম
ফরমটি পূরণ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের শর্তাবলির সাথে সম্মত হচ্ছেন।

এরপর আপনাকে একটি নতুন পেজে redirect করা হবে। সেখানে একটি গাণিতিক ক্যাপচা দেখতে পারবেন যা পূরণ করার পর Search নামক বাটনে ক্লিক করলেই আপনার Valid Birth Certificate অনলাইন কপি দেখানো হবে।
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম (বিস্তারিত)
পূর্বে, Jonmo Nibondhon Jachai করার শর্টকাট টেকনিক দেখিয়েছি। সেটি যদি বুজতে অসুবিধে হয় তবে এবার ছবি সহ ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে দেখে নিন কিভাবে অনলাইনে জন্ম সনদ যাচাই করবেন সেই বিষয়টি।
ধাপ ১: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন BDRIS GOV BD ওয়েবসাইটে প্রবেশ
জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে যাচাই করতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এজন্য গুগলে BDRIS লিখে সার্চ করুন এবং পাওয়া প্রথম লিঙ্কে ক্লিক করুন। অথবা, সরাসরি ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে everify.bdris.gov.bd লিখে প্রবেশ করতে পারবেন।

ধাপ ২: জন্ম নিবন্ধন সনদ নাম্বার দিন
ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর আপনি একটি ছোট ফরম দেখতে পারবেন। এখানে আপনাকে একেক করে ৩টি তথ্য প্রদান করতে হবে। প্রথমটি হচ্ছে জন্ম নিবন্ধন সনদের ১৭ ডিজিটের নাম্বার।

এখানে আপনি সেই জন্ম নিবন্ধন নাম্বারটি টাইপ করবেন, যেই জন্ম সনদ আপনি যাচাই করতে চাচ্ছেন। এটা সাধারণত ১৭ অংকের হয়ে থাকে। অনেকের ১৬ সংখ্যার হয় যা পুরাতন কিংবা একটি ভুল ছাড়া কিছুনা, এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।
ধাপ ৩: জন্ম দিনের তথ্য দিন
এবার দ্বিতীয় ঘরে আপনার জন্ম দিন বসাবেন। এক্ষেত্রে একটি নিদিষ্ট ফর্ম্যাট অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ, যদি আপনার জন্ম সনদে ২০-১২-১৯৯৫ দেয়া থাকে তবে আপনি এখানে ১৯৯৫-১২-২০ লিখবেন।

কারণ হচ্ছে, এখানে YYYY-MM-DD এই ফর্ম্যাট অনুসরণ করা হয় যার অর্থ হলো প্রথমে জন্ম সাল, এরপর জন্ম মাস, সবশেষে জন্ম তারিখ লিখতে হবে। এভাবে আপনার জন্মদিনের তথ্য দিন।
ধাপ ৪: ক্যাপচা পূরণ করুন
জন্ম সনদ ও তারিখ সঠিক ভাবে দেয়ার পর নিচে একটি “অংকের ক্যাপচা” দেখতে পাবেন।

এখানে সংখ্যা দুটি যোগ কত তা প্রশ্ন আকারে দেয়া থাকবে। উক্ত যোগফলের উত্তর যত হবে তার ফলাফল নিচে থাকা বক্সে উঠিয়ে দিবেন। ব্যাস, আপনার কাজ শেষ।

এবার সব তথ্য গুলো আরেকবার মিলিয়ে নিন। সব তথ্য সঠিক ভাবে দেয়ার পর “Search” অপশনে ক্লিক করলেই আপনার জন্ম নিবন্ধন দেখাবে।
ধাপ ৫: জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই করুন
প্রদানকৃত তথ্যের সব কিছু ঠিক থাকেল, ওয়েবসাইটে আপনার জন্ম নিবন্ধনের অনলাইন কপিটি দেখানো হবে। এবার আপনি Jonmo Nibondhon Jachai করে দেখতে পারেন সব ঠিক আছে কি-না। এখানে আপনি বেশ কিছু তথ্য দেখতে পারবেন। তথ্য গুলো হলো:
- জন্ম নিবন্ধন নম্বর (Birth Registration Number)
- নিবন্ধনের তারিখ (Registration Date)
- সনদ ইস্যুর তারিখ (Issuance Date)
- নিবন্ধন কার্যালয়ের নাম (Name of the Registrar Office)
- নিবন্ধিত ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজিতে)
- লিঙ্গ (Sex)
- জন্ম তারিখ (Date of Birth)
- জন্মস্থান (Place of Birth)
- পিতার নাম ও জাতীয়তা (Father’s Name and Nationality)
- মাতার নাম ও জাতীয়তা (Mother’s Name and Nationality)
বিষয়টি বুজতে নিম্মের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

মনে রাখবেন যদি এখানে কোনো তথ্য দিতে ভুল হয় তবে কিন্তু কোনো রেজাল্ট দেখাবে না বরং এটি জানিয়ে দিবে আপনার তথ্য সঠিক নয়। তবে অনেক সময় জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও তারিখ সঠিকভাবে দেওয়ার পরও “Record Not Found” ম্যাসেজ দেখা যায়। এর পেছনে কারণ হলো সনদটি ডিজিটাইজড না হওয়া।
আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদটি যদি পুরোনো বা হাতে লেখা হয়, তবে সম্ভবত এটি এখনো কেন্দ্রীয় অনলাইন ডাটাবেসে (BDRIS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। মূলত ২০১০ সালের আগে ইস্যুকৃত অধিকাংশ সনদই এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এক্ষেত্রে সমাধান হলো:
আপনাকে আপনার মূল সনদটি নিয়ে যে কার্যালয় থেকে এটি ইস্যু করা হয়েছিল (যেমন: ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন), সেখানে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার পুরোনো রেকর্ড তাদের রেজিস্টার বই থেকে খুঁজে বের করে অনলাইন ডাটাবেসে অন্তর্ভুক্ত করে দেবেন, যার পর থেকে আপনি অনলাইনে আপনার সনদটি যাচাই করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই কপি ডাউনলোড
আপনার স্ক্রিনের সামনে যখন Birth Certificate Online Copy দেখা যাবে, তখন এটিকে ডাউনলোড করার সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম হলো “Ctrl+P” ক্লিক করা। তবে আপনি যদি মোবাইল থেকে বের করে থাকেন তবে ব্রাউজারের 3 DOT ( … ) এ ক্লিক করে সেখানে থাকা মেনু গুলো থেকে “Print” লিখাতে ক্লিক করুন।

এরপর উপরে থাকা ছবিটির মত ইন্টারফেস আসবে, যেখানে জন্ম নিবন্ধনের Online Copy টি Save as PDF রেখে Save বাটনে ক্লিক করে দিন। এবং এরই মাধ্যমে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ যাচাই ও অনলাইন কপি ডাউনলোড দুটোই হয়ে গেলো।
মোটকথা, জন্ম সনদের অনলাইন কপি ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে যা করতে হবে, তা হলো:
যদি এরপরেও বুঝতে সমস্যা হয়, তাহলে নিচে দেওয়া ভিডিওটি মনোযোগ দিয়ে দেখুন।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই অনলাইন চেক apps
অফিসিয়ালি সরকারের পক্ষ থেকে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য কোনো অ্যাপস বর্তমানে নেই। হ্যাঁ Play Store এ গুটিয়কয়েক অ্যাপ থেকে থাকলেও সেটি মূলত https://everify.bdris.gov.bd সাইটের ওয়েব ভার্সন অ্যাপ। আর যেহেতু সেটা অফিসিয়াল অ্যাপ নয়, তাই সেগুলো ব্যবহার থেকে বিরত থাকাই ভালো।
তাছাড়া ওয়েবসাইটটি এমন ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেটা কম্পিউটার হোক কিংবা মোবাইল, উভয় ভার্সনেই ভালো ভাবে ব্যবহার করা যায়। তাই অ্যাপ থেকে সরাসরি ওয়েব ভার্সন ব্যবহার করাই ভালো।
অফলাইন জন্ম নিবন্ধন যাচাই
যদি আপনার কাছে জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে বা সনদটি হারিয়ে গিয়ে থাকে, তবে অফলাইনেও যাচাই করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে, আপনাকে যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে সনদটি ইস্যু করা হয়েছিল, সেখানে স্বশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
সেখানে গিয়ে আপনার নাম, পিতার নাম এবং আনুমানিক জন্ম সাল জানালে সেখানকার কর্মকর্তারা তাদের পুরাতন রেজিস্টার বই বা স্থানীয় ডাটাবেস থেকে আপনার তথ্য খুঁজে বের করে দিবে । যদিও এই প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম
অনেকেরই বিভিন্ন ধরণের কাজ যেমন: পাসপোর্ট তৈরি বা নবায়ন করা, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করা, ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ইত্যাদির জন্য জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি ভার্সনে থাকা চাই। এক্ষেত্রে জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি আছে কিনা যাচাই করা খুব জরুরি।
এক্ষেত্রে আপনি একই ভাবে, একই নিয়মে জন্ম নিবন্ধন চেক করবেন যেমনটা উপরে ইতিমধ্যে উল্লেখ্য রয়েছে। তবে ইংরেজি ভার্সন আছে কি-না তা বুঝার উপায় কি সেটি জানিয়ে দিচ্ছি।
যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ইংরেজিতে ডাটাবেজে যুক্ত করা থাকে, তাহলে ফলাফলে আপনার নাম, পিতা ও মাতার নাম এবং ঠিকানা বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই দেখানো হবে। যেমন Registered Person’s Name-এর নিচে ইংরেজি নাম দেখতে পেলেই বুঝবেন আপনার সনদের ইংরেজি ভার্সন রয়েছে।
আর যদি ফলাফলে শুধুমাত্র বাংলা তথ্য দেখতে পান এবং ইংরেজির ঘরগুলো খালি থাকে, তার মানে আপনার নিবন্ধনের সময় ইংরেজি তথ্য যোগ করা হয়নি। অর্থাৎ জন্ম নিবন্ধন ইংরেজি ভার্সনে নেই।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই সংক্রান্ত সাধারণত জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর (FAQ)
নিচে পাঠকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হলো:
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই কিভাবে করব?
আপনার মোবাইল অথবা কম্পিউটার থেকে যেকোনো ব্রাউজার থেকে everify.bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করার মাধ্যমে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে পারবেন।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই yyyy mm dd বলতে কি বুঝায়?
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার সময় জন্ম তারিখ লেখার জন্য (YYYY-MM-DD) ফরম্যাটটি ব্যবহার করা হয়। এখানে YYYY বলতে Year, MM বলতে Month, DD বলতে Day বা দিন বোঝায়। অর্থাৎ আপনার জন্ম তারিখ যদি ২৫ এপ্রিল, ১৯৯৫ হয়, তবে আপনাকে ফর্মে লিখতে হবে 1995-04-25।
জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে কত টাকা লাগে?
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা। এর জন্য কোনো প্রকার সরকারি ফি বা টাকা লাগে না। আপনি যতবার প্রয়োজন, ততবার বিনামূল্যে যাচাই করতে পারবেন।
nid দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
না, সরাসরি জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID নম্বর ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা বর্তমানে চালু নেই। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ অবশ্যই প্রয়োজন হবে। তবে NID কার্ডের সাহায্যে জন্ম নিবন্ধন নাম্বার জানতে পারবেন।
নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায়?
না, শুধু নাম ব্যবহার করে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা সম্ভব নয়। তবে, আপনি যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি না জানেন, সেক্ষেত্রে আপনি আপনার ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। সেখানে থাকা রেজিস্টার বা ডাটাবেজ থেকে তারা আপনার নাম ও পিতা-মাতার নাম দিয়ে তথ্য খুঁজে বের করতে সহায়তা করতে পারবে।
চূড়ান্ত মন্তব্য
আশা করি, এই বিস্তারিত আলোচনা এবং ধাপে ধাপে নির্দেশিকা অনুসরণ করে আপনিও মাত্র ১ মিনিটেই আপনার বা আপনার পরিবারের যেকোনো সদস্যের Jonmo Nibondhon Jachai করতে পারবেন। আমরা দেখেছি, কিভাবে একটি ছোট অনলাইন ভেরিফিকেশন আপনার মূল্যবান সময়, শ্রম এবং অর্থ বাঁচাতে পারে এবং শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে আপনাকে মুক্ত রাখতে পারে।
হাতে থাকা পুরোনো সনদটি ডিজিটাল ডাটাবেজে আছে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকার দিন শেষ। এই আর্টিকেলে দেখানো নিয়ম অনুসরণ করে শুধু যাচাই করাই নয়, বরং অনলাইনে তথ্য না পাওয়া গেলে করণীয় কী, সেই সমাধানও এখন আপনার জানা।
